২.৮৩ সিজিপিএ নিয়ে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত শরীফুল্লাহ


পদার্থবিজ্ঞান পছন্দের বিষয় ছিল মো. শরীফুল্লাহর। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে ভর্তির সুযোগও পেয়েছিলেন। কিন্তু চাকরির বাজারে রসায়নের চাহিদা বেশি থাকায় ভর্তি হন রসায়ন বিষয়ে। ভর্তি হয়েই হতাশ হয়ে পড়েন। ল্যাব ক্লাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারায় প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় খারাপ ফল করেন। পরবর্তী সময়ে আর সিজিপিএ বাড়াতে পারেননি। শেষমেষ সিজিপিএ ২.৮৩ নিয়ে স্নাতক পাস করেন এবং স্নাতকোত্তরে পান ২.৯০ সিজিপিএ।

৪১তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন মো. শরীফুল্লাহ। মেধাক্রম ৬৯। তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা ছিল, কম সিজিপিএ থাকার কারণে ৪১ বিসিএসের ভাইভা বোর্ডে ঝামেলায় পড়তে পারি। কিন্তু ভাইভা বোর্ডে সে রকম কিছু হয়নি। সিজিপিএ নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা হয়নি।
আমার প্রথম পছন্দ ছিল পররাষ্ট্র ক্যাডার। প্রায় ২৭ মিনিটের মতো ভাইভায় স্যাররা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি বিষয়ে অনেক প্রশ্ন করেছিলেন। সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পেরেছি। ভাইভা খুবই ভালো হওয়ায় ক্যাডার হওয়া নিয়ে আশাবাদী ছিলাম।’

স্নাতক পাসের পর ২০১৬ সালে মাত্র এক মাসের প্রস্তুতি নিয়ে ৩৭তম বিসিএস পরীক্ষা দেন মো. শরীফুল্লাহ। সেবার প্রিলিমিনারিতে উতরাতে পারেননি। তখন দেখেন আর মাত্র ৪/৫ নম্বর পেলেই প্রিলিমিনারিতে পাস করতে পারতেন। এরপর ২০১৭ সাল থেকে বিসিএসের জন্য জোরালো প্রস্তুতি শুরু করেন।

শরীফুল্লাহ বলেন, ‘২০১৭ সাল থেকে সব বিষয়ের একাধিক বই নির্বাচন করে ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করি। ৪৪তম বিসিএস দিতে এসে দেখি বাজারের প্রায় সব বই পড়া হয়ে গেছে। আর আমি অনেক বই কিনেছি। যখনই ঢাকা যেতাম, আসার পথে আলাদা বইয়ের ব্যাগ থাকত। আবার স্কুল থেকে আমার সমস্যা ছিল, কোনো বিষয় মুখস্থ হতো না। একই বিষয় বারবার দেখেছি। যেমন তথ্যমূলক পড়া আমি টানা ১০-১২ দিন নির্দিষ্ট সময় ধরে পড়তাম। পরে দেখলাম সেটা মুখস্থ হয়ে যায়।’

বিসিএস প্রস্তুতির জন্য কোনো কোচিং করেননি মো. শরীফুল্লাহ। তিনি বলেন, আমি যেহেতু কোচিং করিনি, তাই একাধিক বই পড়ে আয়ত্তে এনেছি। বাংলা সাহিত্যে ভালো করার জন্য বাংলা সাহিত্যনির্ভর নাটক-সিনেমা দেখেছি। গণিতের জন্য হায়ার লেভেলের ম্যাথ অনুশীলন করেছি। বিজ্ঞানের প্রস্তুতির জন্য ইন্টারনেট থেকে পড়েছি। ইংরেজিতে ভালো করতে নিয়মিত অনলাইনে ইংরেজি পত্রিকা পড়তাম। বাংলাদেশ বিষয়াবলির জন্য সব সময় জাতীয় বিষয়াবলির একটার সঙ্গে অন্যটা রিলেট করে পড়েছি।
২০২১ সালে ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে পাস করি। তবে চাকরি করার কারণে ৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য খুবই কম সময় পেয়েছি। কিন্তু যতটুকু সময় পেয়েছি, শুধুই পড়েছি।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার ও সিনিয়র অফিসার পদেও চাকরি পেয়েছিলেন মো. শরীফুল্লাহ। ব্যাংকে মোট তিন বছর চাকরি করেন। তিনি বলেন, ব্যাংকে ২০১৮ সাল থেকে থেকে চাকরি করে হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। তখন পরিকল্পনা করি যেভাবে হোক ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে অন্য কোনো সরকারি চাকরি করতে হবে। তবে ফুলটাইম চাকরি করে বিসিএসের প্রস্তুতি নিতে খুব কষ্ট হয়েছে

Leave a Comment